মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান (১৭ জানুয়ারি ২০২৩)
হাওজা নিউজ বাংলা রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু এই পুলিশ কর্মকর্তাই নয় আরও পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আছে এই অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তার মতো । অহরহ অপকর্ম ও অপরাধ করার জন্য ব্রিটেনে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা তেমন একটা নেই। ২০০১ থেকে ২০২০সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে এই অপরাধী পুলিশ ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো অপরাধ ও অপকর্ম করে এসেছে এবং তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ পুলিশ কর্তৃপক্ষ তার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করে তাকে অপরাধী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল এই দীর্ঘ ১৯-২০ বছর ধরে। আর এ থেকে প্রমাণিত হয় যে ব্রিটিশ পুলিশের বহু সদস্য ও কর্মকর্তা ক্ষমতা ও পদের অপব্যবহার করে বহু অপরাধ এবং নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন করে থাকে ।
২০২০ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলযে ৫২, ২১০ টি ধর্ষণের ঘটেছে যার মধ্য থেকে মাত্র ৮২৪ টির ক্ষেত্রে মামলা ও সমন জারি হয়েছে অর্থাৎ মাত্র ১.৬% রেপ কেসের মামলা হয়েছে ও কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। ব্রিটিশ পুলিশ কর্তৃক রেকর্ড করা ৬০ টি ধর্ষণের ঘটনার মধ্য থেকে মাত্র একটির ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে ?!!
আর ৪৮ বয়স্ক অপরাধী পুলিশ অফিসার ৪৯ টি অপরাধ করেছে তার ১৯ বছরের চাকরি জীবনে যার ২০ টি ছিল ধর্ষণ !!
ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ৬০%এর অধিক ছাত্রী ধর্ষণ , যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয় ।
এই হচ্ছে ব্রিটেনে নারী, জীবন ও স্বাধীনতার বাস্তব চিত্র ও হালহকিকত !!
শুধু এ অবস্থা ব্রিটেনে নয় সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়ে এ অবস্থা । Combatting violence against women Denmark প্রবন্ধে উল্লেখিত হয়েছে :
হিসাব ও সমীক্ষা অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতি তিন জন নারীর এক জন অথবা ১৮৫ মিলিয়নের মধ্যে ৬১ মিলিয়ন নারীর ১৫ বছর বয়স থেকে দৈহিক বা যৌন বা উভয় ধরনের সহিংসতার শিকার
হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ডেনমার্কে তখন পুলিশের প্রতি আস্থা কম তখন পুলিশের কাছে সহিংসতার রিপোর্ট করা স্বভাবত ই কম হবে !!!
আর এই পশ্চিমারা কিনা আমাদের শোনায় নারী , জীবন ও স্বাধীনতার বাণী । ইরান ও মুসলিম দেশসমূহের ঠিক এই ধরণের পশ্চিমা ধাঁচের নারী , জীবন ও স্বাধীনতার প্রবর্তন হলে নারী ধর্ষণের মাত্রা , হার ও সংখ্যা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং নারীদের জীবন ও অধিকার আসলে বিপদাপন্ন হয়ে যাবে এবং নারীদের নিরাপত্তা থাকবে না । উপরিউক্ত গার্ডিয়ান পত্রিকার রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে ব্রিটেনে নারী জীবন কত অনিরাপদ ! আমাদের উচিত এ ব্যাপারে ব্রিটেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে কৈফিয়ত তলব এবং ওদেরকে ( ব্রিটেন ও পশ্চিমা দেশগুলো ) নারীর জীবনের নিরাপত্তা ও অধিকার সংরক্ষণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তিরষ্কার ও অভিযুক্ত করা । অথচ ব্রিটেন ও পশ্চিমা দেশগুলো কত বেহায়া ও নির্লজ্জ যে তারা ইরানকে নারীর অধিকার লংঘন ও নারীর জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারার অভিযোগে অভিযুক্ত বলে প্রচার করছে !!!
শার্লক হোমসের মতো দক্ষ চৌকস বিশ্ববিখ্যাত ডিডেকটিভ পুলিশ স্কট ল্যান্ড ইয়ার্ড কি ঘাস কাটছিল যে তারা এ অপরাধী অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে শনাক্ত করতে ও ধরতে পারে নি ?!!! তাহলে কোথায় থাকল স্কট ল্যান্ড ইয়ার্ডের পেশাগত কর্ম দক্ষতা ? অনেকে হয়তো বলতে পারে যে এখনতো এই অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ ও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু তাদের কথার জবাবে বলতে হয় যে এত দীর্ঘ সময় পরেই তা প্রমাণিত হল এবং বহু মানুষের মহা সর্বনাশ হয়ে গেছে ততক্ষণে !! শুধু এই অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তাই প্রথম এবং শেষ নয় । ব্রিটিশ পুলিশে তার মতো আরও অপরাধী বহু পুলিশ কর্মকর্তা আছে যারা দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ করে আসছে এবং তাদেরকে বিশ্ববিখ্যাত স্কট ল্যান্ড ইয়ার্ড শনাক্ত করতে ও ধরতে পারে নি বা পারছে না । ফিল্ম , গল্প , প্রচার প্রোপ্যাগ্যান্ডার মাধ্যমে স্কট ল্যান্ড ইয়ার্ডকে বিশ্ব জুড়ে খ্যাতি দেওয়া হয়েছে বিশ্ব বিখ্যাত করা হয়েছে ( ব্রিটিশরা প্রচার প্রোপ্যাগান্ডা ও প্রচারণা চালাতে বহুত পারঙ্গম , ওস্তাদ , পটু ও দক্ষ এবং এই প্রচার প্রোপ্যাগান্ডা চালিয়ে যুদ্ধের ময়দানে বিজয়ী শত্রুকে পরাজিত ও ধরাশায়ী করে দেয় !!! তবে প্রকৃত পক্ষে ব্রিটিশ পুলিশ ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ঠোলার মতোই । তবে এদেরকে বিশ্ব ঠোলা না বললে এদের ( ব্রিটিশ পুলিশ ও বিশ্ববিখ্যাত ডিটেকটিভ স্কট ল্যান্ড ইয়ার্ডের ) অবমাননাই করা হবে । যে যে কারণে বিভিন্ন দেশে পুলিশকে ঠোলা বলা হয় ব্রিটিশ পুলিশ ও স্কটল ্যান্ড ইয়ার্ডের ক্ষেত্রেও সেই সব কারণ বিদ্যমান। আর ব্রিটিশ পুলিশে এ ধরনের অপরাধী সদস্য ও কর্মকর্তাদের অস্তিত্ব আসলে সর্ষের মধ্যে ভুত থাকার মতো নয় কি ? ( যে সর্ষে দিয়ে ভুত তাড়াতে হবে সেই সর্ষের মধ্যেই ভুত বসে রয়েছে!!! )
আর একটা কথা: ব্রিটেন অন্য দেশের পুলিশের কর্মদক্ষতা ও অপরাধ নিয়ে কথা বলে এবং নিজেদের পুলিশকে সৎ , পেশাগত দক্ষতার অধিকারী আদর্শ মডেল পুলিশ বলে উপস্থাপন করে বিশ্ববাসীর সামনে। আমাদের দেশের অনেকেই ব্রিটিশ পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কথায় কথায় তারা বলে যে আমাদের দেশের পুলিশ ও ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ব্রিটিশ পুলিশ ও স্কট ল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো হত তাহলে কত ভালো হত এত সব অপরাধ থাকত না ! ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ এ ঘটনা ও এ ধরণের বহু ঘটনার কারণে ব্রিটিশ পুলিশ ও স্কট ল্যান্ড ইয়ার্ড অন্যান্য দেশের পুলিশের মতোই।
আমাদের দেশের মতো দেশসমূহের পুলিশ ও ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ব্রিটিশ পুলিশের আদলেই গড়ে তোলা হয়েছে এবং আমাদের দেশ সহ বিভিন্ন দেশের বহু পুলিশ কর্মকর্তার উচ্চ ট্রেনিং ব্রিটিশ পুলিশ বিশেষজ্ঞরা দিয়ে থাকে । তাহলে ওস্তাদের স্বভাব , দোষ ত্রুটি ও গুণ শাগরেদদের মধ্যেও স্থানান্তরিত ( ট্রান্সমিট ) হবে !
এমন অপরাধী কর্মকর্তা ও সদস্য দুই এক জন সবখানেই আছে। তবে ব্রিটিশরা যেহেতু নিজেদের ব্যাপারে বহুত কিছু দাবি ও জাহির করে বলেই এ ধরনের আলোচনা সমালোচনার অবতারণা হয় । আর এ ছাড়া ব্রিটিশ পুলিশের যন্ত্রপাতি ও সুযোগ সুবিধা আমাদের দেশের মতো দেশগুলোর চাইতে অনেক এবং তুলনাই করা যায় না ।
যেমন: সমগ্র ব্রিটেনে এতটা সিসিটিভি ভিডিও ক্যামেরা বসানো আছে যে প্রত্যেক ব্রিটিশ নাগরিক ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে যেখানেই যাক না কেন দিন রাতে বহুবার মনিটর হয় ! অথচ এত কিছুর পরেও ব্রিটেনে বাসা বাড়ীতে বহু চুরির ঘটনা ঘটছে এবং তা বন্ধ করতে পারছে না ব্রিটিশ পুলিশ এবং বহু অপরাধী ও চোরকেও ধরতে পারছে না । বহু চুরির মামলা দীর্ঘ দিন অমিমাংসিত থাকছে । পুলিশ সেগুলো সুরাহা করতে পারছে না। আসলে আগে যেমন ব্রিটিশ চিকিৎসা মেডিক্যাল ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনীতিতে বিভ্রাটের কথা বলা হয়েছে ঠিক তেমনি ব্রিটিশ পুলিশ প্রশাসন ও ব্যবস্থায়ও বিভ্রাট রয়েছে !!! তাই এ সব কিছু দেখার পর অনেকেই এ ধরনের পুলিশকে ফুলিশও বলে !!!
আপনার কমেন্ট